মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

শিরোনাম

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে জাতীয় নির্দেশিকা উন্মোচন এনসিডিসির

বুধবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

ঢাকা: জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের (এনএইচএন) কারিগরি সহায়তায় সম্প্রতি উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) নিয়ে জাতীয় নির্দেশিকার দ্বিতীয় সংস্করণ উন্মোচন করেছে নন-কমিউনিকেবল ডিজিস কন্ট্রোল প্রোগ্রাম (এনসিডিসি)। নির্দেশিকাটি বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে এবং প্রয়োজনীয় ও উচ্চ মানের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ নন-কমিউনিকেবল ডিজিস (এনসিডি) রিস্ক ফ্যাক্টর জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, ১৮-৬৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ বিদ্যমান সাধারণত ২৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ, পুরুষদের মধ্যে ২৪ দশমিক এক শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ২৩ শতাংশ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে ও সবার জন্য মানসম্পন্ন জীবনযাত্রার উন্নয়নে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চ রক্তচাপ একটি গুরুতর ব্যাধি; যা হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি ও অন্য রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। পৃথিবীজৃড়ে অসংক্রামক ব্যাধি ঝুঁকি তৈরির পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ। উচ্চ রক্তচাপের কার্যকর চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে বাংলাদেশে একাধিক বিদেশি নির্দেশিকা দেশে থাকলেও কোন নির্দেশিকাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তৈরি করা হয়নি।

এ প্রেক্ষিতে, এনসিডিসি ২০১৩ সালে বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় নির্দেশিকা (প্রথম সংস্করণ) তৈরি করে। প্রথম সংস্করণ তৈরিতে এনসিডিসি প্রখ্যাত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সাথে কাজ করে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নির্দেশিকা পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ নির্দেশিকাটি তৈরি করে। মেডিসিনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অর্জন এবং হালনাগাদ তথ্য, প্রমাণ ও অনুশীলনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় সংস্করণের উন্মোচন করা হয়।

এনসিডিসি প্রোগ্রামের কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এনসিডিসির ব্যবস্থাপনা মডেলের প্রচারণায় এনসিডিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে জাইকার কারিগরি সহায়তামূলক প্রকল্প ‘স্ট্রেন্দেনিং হেলথ কেয়ার সিস্টেমস ফর অর্গানাইজিং কমিউনিটিজ,’ যা এসএইচএএসটিও নামে পরিচিত এবং এ প্রকল্প শেষ হয় ২০২২ সালে। অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে গৃহীত প্রচেষ্টার জন্য জাইকা প্রকল্পের ফলস্বরূপ জাতীয় এ নির্দেশিকা উন্মোচন নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে। এছাড়াও, জাইকা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত সহযোগিতার ভিত্তিতে এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’ নামে একটি নতুন সফল প্রকল্প উন্মোচন করা হয়ে।

নির্দেশিকা উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিস কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ রোবেদ আমিন। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার মো. টিটু মিয়া, জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ কোমোরি তাকাশি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আওয়াল (রিজভি) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আহমেদুল কবির।