রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

শিরোনাম

জাতিসংঘের মহাসচিবের মায়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের সাথে বৈঠক মোমেনের

বুধবার, মার্চ ২২, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত নোলিন হেজারকে রাখাইনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির উন্নয়নে মায়ানমার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অন্যান্য অংশীদারদের সাথে তার সম্পৃক্ততা আরো বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। তিনি বিশেষ করে রোহিঙ্গা সঙ্কটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের ওপর জোর প্রদান করেন।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বিশেষ দূতের সাথে অনুষ্ঠিত একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

রোহিঙ্গা বিষয়ে সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত বিভিন্ন রেজুলেশনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিশেষ দূতকে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নিজ মাতৃভূমি মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে এবং আসিয়ান নেতৃত্বসহ সব বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নেতাদের সাথে ‌আরো সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে মোমেন আরো বলেন, ‘সুযোগ দেয়া হলে রোহিঙ্গারা মায়ানমারের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হতে পারে ও তাদের আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।’

কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থিত অস্থায়ী ক্যাম্পে মায়ানমারের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তনসহ রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচীসমূহের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। এ প্রেক্ষিতে তিনি বিশেষ দূতকে রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের সবচেয়ে জরুরি চাহিদা যেমন, খাদ্য, শিক্ষা, আশ্রয় ও স্বাস্থ্য সেবা মেটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ করতে কাজ করার আহ্বান জানান।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ‘রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড বার্ডেন শেয়ারিং’ নীতির আওতায় জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো যাতে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষ দূতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ভূমিকা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেন ও তাকে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।

বিনিময়ে বিশেষ দূত পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বলে রাখা ভাল, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ২২-২৪ মার্চ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।