সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

জেফরি এপস্টেইন: যৌন কেলেঙ্কারির নথিতে এবার স্টিফেন হকিংয়ের নাম

সোমবার, জানুয়ারী ৮, ২০২৪

প্রিন্ট করুন

নিউইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত ধনকুবের ও যৌন ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের সাথে ‘ওঠাবসা’ ছিল ও পৃথিবীব্যাপী সুপরিচিত বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের প্রকাশিত ওই নথি থেকে জানা গেছে, এই তালিকায় আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন দুই প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রিন্স এন্ড্রুসহ অনেকে। খবর ফোর্বস, পিপল সাময়িকী, এনডিটিভির।

এ নিয়ে পৃথিবীর সব মহলে চলছে জোর বিতর্ক ও আলোচনা। এরই মধ্যে আরো এক বিখ্যাত ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। আর তিনি হলেন প্রয়াত পদার্থবিদ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।

কুখ্যাত নারী নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে জড়িয়ে তার নাম দেখে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, এমন একজন ব্যক্তিও এমন ন্যাক্কারজনক অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন।

প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, প্রয়াত বিজ্ঞানী হকিং ‘অল্পবয়সী শিশু’দের সাথে বিকৃত যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। আর তার বিরুদ্ধে ওঠা সেই অভিযোগ দামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন এপস্টেইন। এমনকি অভিযোগ ‘ভুল’ প্রমাণ করতে পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

মূলত জেফরি এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের শিকার ভার্জিনিয়া জিওফ্রের করা ক্ষতিপূরণ মামলার অংশ হিসেবে গেল বুধবার (৩ জানুয়ারি) এপস্টেইন সম্পর্কিত মামলার নথি প্রকাশ প্রকাশ করা হয়।

জেফরি এপস্টেইনের সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত এমন অন্তত ১৫০ জনের নাম রয়েছে ওই নথিতে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ যুবরাজ ও কিং চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এবার সেই তালিকায় দেখা গেল বিজ্ঞানী হকিংয়ের নামও।

দীর্ঘ দিন ধরে মোটর নিউরন রোগের সাথে যুদ্ধ করে ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত অধিকাংশ সময় তিনি হুইল চেয়ারে করে চলাফেরা করতেন।

২০১৫ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভার্জিনিয়া জিওফ্রে। তার অভিযোগ, যৌন ব্যবসায় কাজে লাগানোর জন্য আরো কয়েকজন অল্প বয়সী নারীর সাথে তাকেও পাচার করেছিলেন জেফরি এপস্টেইন ও তার সহযোগী সলেন গিজলেইন ম্যাক্সওয়েল। ওই সময় তিনি কিশোরী ছিলেন বলে জানান ভার্জিনিয়া।

২০১৯ সালে যৌন ব্যবসায়ের বিভিন্ন অভিযোগের বিচার শুরুর পূর্বে কারাগারে আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন। তবে, তিনি আসলেই আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছিল, তা নিয়ে বহু প্রশ্ন আছে।

এর তিন বছর পর ২০২২ সালে নারী পাচার ও যৌন ব্যবসায়ের অভিযোগে এপস্টেইনের সহযোগী গিজলেইন ম্যাক্সওয়েলের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর চলতি বছরের ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের একটি আদালতের বিচারক এপস্টেইনের মামলার নথিগুলো প্রকাশের অনুমতি দেন।

নথিতে পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের নামও এসেছে। নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন ২০১৫ সালে তার সহযোগী গেজলেইন ম্যাক্সওয়েলকে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাতে লিখেছিলেন, কেউ যদি হকিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভুল প্রমাণ করতে পারে, তবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।

সেই ইমেইল থেকে জানা গেছে, বিজ্ঞানী হকিংয়ের বিরুদ্ধে ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডে এপস্টেইনের মালিকানাধীন দ্বীপে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এ অভিযোগকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করছিলেন এপস্টেইন।

এক্ষেত্রে, এটা উল্লেখ করা জরুরি যে, সুনির্দিষ্ট করে হকিংকে নিয়ে কখনো সরাসরি অভিযোগ করেননি ভার্জিনিয়া। তাছাড়া, এর পূর্বে হকিংকে কখনো কোন যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়নি।

২০০৬ সালের মার্চে একটি বিজ্ঞান বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে হকিং এপস্টেইনের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ক্যারিবীয় দ্বীপ সফর করেন। তখন অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, এপস্টেইনের দ্বীপে নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন হকিং। তার কিছু দিন পূর্বেই এপস্টেইনের বিরুদ্ধে প্রথম বারের মত অভিযোগ উঠেছিল।

একই ইমেইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে ওঠা আলাদা একটি অভিযোগের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানেও এপস্টেইন দাবি করেন, ক্লিনটনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ভার্জিনিয়া জিওফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, জেফরি এপস্টেইনের নির্দেশে নানা সময় তাকে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে একান্তে সময় কাটাতে হয়েছিল। তাদেরই একজন ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু।

তার আরো অভিযোগ, নিউইয়র্কের অভিজাত এলাকা ম্যানহাটানে এপস্টেইনের একটি বাসায় ও যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন আইল্যান্ডে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে কিশোরী বয়সে প্রিন্স অ্যান্ড্রু তাকে নিপীড়ন করেছিলেন।

যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘ভার্জিনিয়া জিওফ্রের সাথে কোন ‘ভুল কাজ’ করেননি তিনি। এমনকি ভার্জিনিয়ার সাথে তার কোন সম্পর্কও ছিল না।’