মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪

শিরোনাম

রাশিয়ার সাথে প্রবল উত্তেজনা; ড্রোন ধ্বংসের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের

শুক্রবার, মার্চ ১৭, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

ফ্রান্স: কৃষ্ণসাগরের ওপর রুশ যুদ্ধবিমানের হামলায় ড্রোন ধ্বংসের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা ও পাল্টা-পাল্টি অভিযোগের মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) বিকালে ওই ফুটেজ প্রকাশ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) রাশিয়ার সুখোই-২৭ যুদ্ধবিমানের বেপরোয়া তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনটি কৃষ্ণসাগরে ভেঙে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনটি ওই এলাকায় নজরদারি করছিল।

ফুটেজে দেখা যায়, কৃষ্ণসাগরের উড়ন্ত ড্রোনটির পাশ ঘেষে দুই বার উড়ে যায় রাশিয়ার যুদ্ধবিমান সুখোই-২৭ ফ্লাঙ্কার। প্রথম বার এর সামনের দিকে জ্বালানি ছিটিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এমন হয়রানিমূলক কৌশল এর আগে কখনো দেখা যায়নি।’

দ্বিতীয় বার এস-২৭ যুদ্ধবিমানটি এমকিউ-৯ রিপারের এত কাছাকাছি দিয়ে যায় যে, এরপরই ড্রোনটির নেটওয়ার্কে গোলযোগ দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরই সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; যা ইঙ্গিত করে যে সংঘর্ষ ঘটেছে।

ড্রোনটি ধ্বংসের কথা স্বীকার করেছে রাশিয়া। তবে, দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, ‘কৃষ্ণসাগরে ড্রোনের উপস্থিতি ‘উসকানিমূলক’। ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনটি মিসাইল-বোমা ও বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। অতিকায় ড্রোনটি পাখার ব্যাপ্তি ৭২ ফুটেরও বেশি। তাই, নিরাপত্তার খাতিরেই ড্রোনটিকে ধ্বংস করা হয়েছে।’

ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ তদন্তের জন্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানায় রাশিয়া। আর এ নিয়েই ক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মাইলি বলেন, ‘এ ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ। কোনভাবেই এটির ধ্বংসাবশেষ আমরা শত্রুর হাতে পড়তে দেব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাগরের চার থেকে পাঁচ হাজার ফুট গভীরে পড়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার অভিযান জটিল। আর এটাও সত্যি, ওই অঞ্চলে আমাদের জাহাজ নেই। যদিও বহু মিত্র রয়েছে সেখানে। তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমেই উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।’

বুধবার (১৫ মার্চ) এ ইস্যুতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগুর সাথে টেলিফোনে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন। যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে উস্কানিমূলক বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রাশিয়ার অভিযোগ, কৃষ্ণ সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনের উপস্থিতি নিশ্চিত করে, মস্কোর বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত ওয়াশিংটন।