সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

নিউ ইয়র্ক সিটিতে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশী তরুণ নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

শনিবার, মার্চ ৩০, ২০২৪

প্রিন্ট করুন

নিউ ইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে পুলিশের গুলিতে উইন রোজারিও নামের বাংলাদেশী তরুণ নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে প্রবাসী বাঙালী খ্রীস্টান এসোসিয়েশন ইনক। শুক্রবার (২৯ মার্চ) সিটির জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এ বিক্ষোভ হয়। এ সময় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘উইন উই ফেইল টু রেসপেস্ট ইউ’ ইত্যাদি শোকাহত প্ল্যাকার্ড হাতে উত্তেজিত জনতাকে মিছিল করতে দেখা যায়।

এর পূর্বে মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) দুপুর একটা ৪০ মিনিটের দিকে ওজোনপার্ক ১০৩ স্ট্রিটের ১০১ এভিনিউয়ের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সামনে উইনের উপর গুলি চালায় পুলিশ। গুরুতর আহতাবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে কাছের জ্যামাইকা হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উইন রোজারিওর জন্ম বাংলাদেশী খ্রীস্টান পরিবারে। বাবা ফ্রান্সিসের সঙ্গে ২০১৪ সালে গাজিপুর থেকে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলো উইন। উইনের স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া। ইন্টারভিউতেও টিকে গিয়েছিলো সে। কিন্তু, পুলিশের বুলেট কেড়ে নিল এ স্বপ্নবাজ তরুণের তরতাজা প্রাণ।

পুলিশ অন্যায়ভাবে রোজারিওকে খুন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন উইনের মা ইভা কোস্টা (৪৯)। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে পুলিশকে কাঁচি দিয়ে ধাওয়া করেনি। পুলিশের বডি ক্যামেরা পরীক্ষা করলেই তা স্পষ্ট হবে। উইন পুলিশের কাছে ধরা দিতে চায়নি। সে আমাকে জড়িয়ে ধরে পুলিশের হাত থেকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছিল। আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে খুন করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, উইনের ছোট ভাই উৎস রোজারিও (১৭) তাদের জানিয়েছে, উইন মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। কয়েক দিন আগেও নাকি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন।

অপর দিকে উইনের মা ইভা বলেন, ‘উইন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ভর্তির অপেক্ষায় ছিলেন। ইন্টারভিউতে টিকে গেছেন। মানসিকভাবে সে সুস্থ না থাকলে ইন্টারভিউতে টিকে কীভাবে?’

জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন লুথারেন চার্চের প্যাস্টর জেমস রয় জানান, মাঝে-মধ্যেই মা-বাবার সাথে উইনকেও চার্চে দেখেছি। আমি তাকে শিশুকাল থেকেই দেখছি। মানসিকভাবে সামান্য অসুস্থ ছিলেন। ছয় মাস আগেও সে জ্যামাইকা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তারপর তাকে কখনও অস্থির হয়ে কোন বাজে কাজে লিপ্ত হতে দেখিনি বা শুনিনি। তার এ অকাল মৃত্যুকে মেনে নেয়া যায় না। আমি নিজেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগদানের অনুরোধ জানিয়েছি। কারণ, তার শরীর-কাঠামো সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত উপযোগী।