বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

নির্বাচনী কৌশল: রিজার্ভ থেকে আরো তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত বাইডেন প্রশাসনের

বুধবার, অক্টোবর ১৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্র জরুরি রিজার্ভ থেকে আরো তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কৌশল হিসেবে জ্বালানি তেলের দাম কম রাখতে ইউএস স্ট্র্যাটিজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে আরো তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে বাইডেন প্রশাসন। হোয়াইট হাউস ও বাইডেন প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের তিনজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর রয়টার্সের।

খুচরা বাজারে জ্বালানি পণ্য গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধি ও তার প্রভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর বাড়তে থাকা দামে লাগাম দিতে নিজেদের রিজার্ভ থেকে আরো তেল ছাড়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।

মার্কিন তেলের খনি থেকে দেশটির সরকারি-বেসরকারি কোনোসংস্থারই তেল উত্তোলনের অনুমতি নেই। এ সম্পর্কে দেশটিতে সুনির্দিষ্ট আইনও রয়েছে। সেই আইনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খনিতে মজুত তেলকে ‘কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশের কোন খনি থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন করা যাবে না।’

চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর পৃথিবীর জ্বালানি তেলের অন্যতম যোগানদাতা দেশ রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা। এর পরেই পৃথিবী জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও তেলের দাম বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে গত মে মাসে ‘কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বাইডেন।

হোয়াইট হাউস ও বাইডেন প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি সেই ১৮ কোটি ব্যারেলের সাথে অতিরিক্ত আরো এক কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। চলতি সপ্তাহে বাইডেন এমন সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বলানি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ডেভিড টার্কের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানির সাথে সম্প্রতি একটি চুক্তি হয়েছে মার্কিন সরকারের। সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ‘কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ থেকে যে পরিমাণ তেল চলতি বছর বাজারে ছাড়া হবে, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সেই পরিমাণ তেলে ফের রিজার্ভে মজুত করা হবে ও সেই তেল সরবরাহ করবে বিভিন্ন মার্কিন কোম্পানি।

জানা যায়, আগামী ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের রফতানি আর না বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ আরো ২৬ মিলিয়ন বাড়াতে তিন মার্কিন অ্যাক্সন মোবিল, শেভরন ও ভালেরোকে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।