মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪

শিরোনাম

পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

রবিবার, জুন ৯, ২০২৪

প্রিন্ট করুন

ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র: রাশিয়া ও চীনসহ অন্য প্রতিপক্ষদের ক্রমবর্ধমান উত্থানের শঙ্কায় ভুগছে যুক্তরাষ্ট্র। আর তাদের হুমকি মোকাবিলায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিকে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বাড়াতে হতে পারে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। সংবাদ রয়টার্সের।

শুক্রবার (৭ জুন) হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা প্রণয় ভাদ্দি এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান। দেশটির আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ‘আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক পদক্ষেপের’ ব্যাপারে প্রণয় ভাদ্দির দেয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতিতে পরিবর্তনের কথাই উঠে এল। অস্ত্রভান্ডার সীমিত রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান থেকে রাশিয়া ও চীনকে সরিয়ে আনাই এর উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষরা যদি (নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বাড়ানোর বর্তমান নীতিতে) পরিবর্তন না আনে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদেরও (কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের) মোতায়েন বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেবে। যদি প্রেসিডেন্ট এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে।’

প্রণয় ভাদ্দি বলেন, ‘যদি এ ঘোষণা আসে, তাহলে সেটা দৃঢ়সংকল্পে পরিণত হবে যে, আমাদের প্রতিপক্ষদের নিবৃত্ত করতে ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সুরক্ষায় আরো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন হবে।’

রাশিয়ার সাথে ২০১০ সালে সম্পাদিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে। যদিও যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়ার অভিযোগে গেল বছর এ চুক্তি থেকে রাশিয়া নিজেদের সরিয়ে নেয়। রাশিয়ার এ সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি’ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রণয় ভাদ্দির এক বছর পূর্বে এ সংগঠনটির আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছিলেন, ‘রাশিয়া ও চীনের অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের মোতায়েন বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।’ তখন তিনি দেশ দুটিকে ‘কোন ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই’ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যাপারে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে বাইডেন প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে বলে জানান প্রণয় ভাদ্দি। তবে, তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়া দ্রুততার সাথে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে ও বৈচিত্র্যময় করছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে দেশগুলোর তেমন আগ্রহ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের এ কর্মকর্তার দাবি, এ তিন দেশ ও ইরান এমনভাবে পরস্পরের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াচ্ছে, যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিরোধী। এটি যুক্তরাষ্ট্র, আমাদের মিত্র ও অংশীদারতে হুমকিতে ফেলছে ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।