শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

শিরোনাম

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ঢাকায় লাল গালিচা সংবর্ধনা

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

ঢাকা: ৩৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সফরকারী প্রথম ফরাসি প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দুই দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন। এ সময় তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে নয়াদিল্লি থেকে ঢাকা পৌঁছালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ম্যাক্রোঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফরাসি প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

সশস্ত্র বাহিনী তাকে গার্ড অব অনার দেয় ও ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়।

নয়াদিল্লিতে ফরাসি নেতা জি২০ সম্মেলনে যোগ দেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনের শুরুর দিকে দেশে ফিরে আসেন, যাতে তিনি ম্যাক্রোঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে পারেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট যে বিমানবন্দর ও রাস্তা দিয়ে গাড়িতে ভ্রমণ করেন, সেসব সড়ক ম্যাক্রোঁ, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। রাজধানী জুড়ে দুই দেশের জাতীয় পতাকা ও বর্ণিল ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।

ফ্রাঁসোয়া মিটাররান্ড ছিলেন শেষ ফরাসি রাষ্ট্রপতি, যিনি ১৯৯০ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।

ম্যাক্রোঁ সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হবে। এছাড়াও, সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) তারা কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করবেন ও একটি যৌথ প্রেস ব্রিফিং করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ম্যাক্রোঁ।

ঢাকায় ফ্রান্সের দূতাবাস বলেছে, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য; বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উভয় পক্ষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেখে আমরা রোমাঞ্চিত।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সাথে রয়েছেন ইউরোপ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা।

ফরাসি পক্ষ জানিয়েছে, শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর এই সফরটি দুই দেশের মধ্যে আরো অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুসংহত ও ‘কিছু প্রকল্প জোরদার করার উপলক্ষ্য হবে।

১৯৯০ সালের শুরু থেকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক অনেক দূর এগিয়েছে।

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে মোট বাণিজ্য ২১০ মিলিয়ন ইউরো থেকে বর্তমানে চার দশমিক নয় বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত হয়েছে ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ফ্রান্স পঞ্চম দেশ। ফরাসি কোম্পানিগুলো এখন ইঞ্জিনিয়ারিং, জ্বালার্নি, এরোস্পেস ও পানি সম্পদসহ বিভিন্ন খাতে সম্পৃক্ত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সরকার আন্তরিকভাবে আশা করছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে।’

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা ২০২১ সালের নভেম্বরে ফ্রান্স সফর করেন।

ফ্রান্স এই সফরকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘গভীর করার সুযোগ’ হিসেবে দেখছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এর আগে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ও ফ্রান্স আলোচনার সময় জলবায়ু পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের মত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করবে।’

মোমেন বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন, ব্যবসায়-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন- এগুলো স্বাভাবিক বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় সমস্যা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এ ক্ষেত্রে একটি নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েছেন।’

বাংলাদেশ তার প্রাসঙ্গিক লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলের বিষয়টি ও এর কার্যকারিতা বড় আকারে উত্থাপন করবে।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুটায় ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোমেন।