শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর খুনী রাশেদকে ফেরাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যর্পণ চুক্তি চূড়ান্ত করার আহবান

শনিবার, অক্টোবর ৮, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র: বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী রাশেদ চৌধুরীর হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ করতে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। শুক্রবার (৭ অক্টোবর) ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি ওয়েন্ডি আর শেরম্যানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আহবান জানানো হয়।

বৈঠককালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনী ও দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামী রাশেদ চৌধুরকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন নিশ্চিতে খুনী রাশেদ চৌধুরীর ইস্যুটি বাংলাদেশের জনগণ ও শেখ হাসিনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রতিমন্ত্রী র‌্যাব ও এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহবান জানান। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৮৮ মিলিয়ন করোনা ভাইরাসের টিকা সরবরাহের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করায় আলম দেশটির সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এছাড়া তিনি মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি এলডিসি সম্পর্কিত বিষয়ে ডব্লিউটিওতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চান- যাতে করে, বাংলাদেশের মত দেশগুলোর জন্য এলডিসি উত্তরণ টেকসই ও সহজ হয়। আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন ইস্যুর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরো ঘণিষ্ঠভাবে কাজ করতে তার সরকারের ইচ্ছার কথা জানান। এ ব্যাপারে, তিনি আসন্ন কপ-২৭ এ ক্ষয় ও ক্ষতি ইস্যুতে একটি কর্মপন্থা ভিত্তিক আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ।

এ সময় মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে তিন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী সদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে, বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন। শেরম্যান সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা অব্যহত রাখার কথা পুনরুল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের ব্যাপক করোনার টিকাদান কর্মসূচি এবং এ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ সরকারের গৃহিত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।

ডেপুটি সেক্রেটারি জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকার প্রশংসা করে, কপ-২৭ এর আগে গ্লোবাল মিথেন প্লেজ-এ যোগ দিতে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করেন। বাংলাদেশের শ্রম খাতে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে শেরশ্যান দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ, খাদ্য ও জ্বালানী নিরাপত্তা ও বাংলাদেশে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
পরে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারি ও পরবর্তী হোয়াইট হাউস ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সিনিয়র ডিরেক্টর ফর সাউথ এশিয়া রিয়ার অ্যাডমিরাল ইলিন লাউব্যাচার ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশী দূতাবাসে প্রতিমন্ত্রীর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা, র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার মত বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।