রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

শিরোনাম

বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে

বুধবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২২

প্রিন্ট করুন

আবছার উদ্দিন অলি: মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর বুধবার। আমাদের গৌরব ও অহংকার। ১৯৭১ সালের এ দিনে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ নামের স্বাধীন এ ভূখন্ড। তার বিনিময়ে আমাদের হারাতে হয়েছে অনেক কিছু। বিজয়ের এ দিনে আমরা স্মরণ করছি, আমাদের সে সব অকুতোভয় বীর সেনানীকে। পৃথিবীর সব দেশে ছড়িয়ে থাকা সব বাঙালিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন। যুদ্ধ চলাকালীন সাহস, শক্তি ও অনুপ্রেরণা উৎসাহ যুগিয়েছেন আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা। শিল্পীদের সংগ্রামী কন্ঠের গান সাড়া জাগিয়ে তোলে বাংলার পথে প্রান্তরে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী প্রবাল চৌধুরী, কল্যাণী ঘোষ, মিহির কুমার নন্দী, জয়ন্তী লালা, মৃনাল ভট্টচার্য্য, সুজিত রায়, বানী কুমার চৌধুরী, শীলা মোমেন, উমা ইসলাম, ননী গোপাল দত্ত, শেফালী ঘোষসহ আরো অনেকে মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন সংগীত পরিবেশন করে উৎসাহিত করেছে পুরো বাঙালী জাতিকে। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারার মত গৌরবের বিষয় আর কি হতে পারে। বাংলাদেশের জন্ম ও নতুন জাতি হিসেবে পৃথিবীতে মুক্তিযোদ্ধারা সেই দিন যুদ্ধ করেছেন ইতিহাসে তারা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। স্বপ্নের হাজারো রং ছড়িয়ে আমরা সবাই চাই, আমাদের দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে। সব শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধ, হৃদয়ে দেশের গান। মুক্তির সংগ্রামে গানে গানে সুরে সুরে সারা দেশে বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধচলাকালীন বেতার ছিল সকল খবরা খবরের একমাত্র মাধ্যম। বেতারের খবর শুনতে হাজার হাজার লোক এক সাথে জড়ো হত। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের গানগুলো নতুন করে উজ্জীবিত করতো। বন, জঙ্গল, পাহাড়, নদী, সাগর, সমুদ্র সব জায়গায় শোনা যেত বিজয়ের গান।

চট্টগ্রামে দেশের গান লিখেছেন রমেশ শীল, আবদুল গফুর হালী, সৈয়দ মহিউদ্দিন, খুরশিদ আনোয়ার, মমতাজ আলী খান, ময়ুখ চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা, লিয়াকত হোসেন খোকন, এসএম খুরশিদ, আনিস আহমেদ বাচ্চু, জহুরুল ইসলাম, ফারুক হাসান, জসিম উদ্দিন খান, জিকে দত্ত, দীলিপ ভারতী, পংকজ দেব অপু, একেএম জয়নাল আবেদীন, মো. ওবায়দুল্লাহ, খোদেজা খুরশিদ অপরাজিতা, আবছার উদ্দিন অলি, মাহাবুবুল আলম বাবুল, শফি সুমন, তসলিম উদ্দিন আহমেদ, খোরশেদুল আনোয়ার, এয়াকুব সৈয়দ, সরোয়ার হোসেন নবাব, ইকবাল হায়দার, আবদুল লতিফ ওয়াসেফপুরী, সঞ্জিত আচার্য্য, সৈয়দ খালেদুর আনোয়ার, ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল মানিক, মুন্সি ওয়াদুদ, শতাব্দী সাহা মনি, সুফী মোহাম্মদ নাঈম, মৌসুমী সেন, দীপক আচার্য্য, আহমেদ মাওলা, মাসুম ফেরদৌস, কোহিনুর সাকী, সিরাজুল হক সিরাজ, মাহফুজুল হক, মৃনালীনি চক্রবর্তী, নুর নবী রাজু, কমর আলম, রুহুল কুদ্দুস, জামাল রেজা, রাহাগীর মাহমুদ, শাহীন আনোয়ার, শাহীন আক্তার, হুমায়ুন চৌধুরী, মুহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী।

আমার সোনার বাংলা, সালাম সালাম হাজার সালাম, আমার ভাইয়ের রক্তে, সবকটা জানালা খুলে দাও না, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব, এক বার যেতে দেনা আমায়, এক নদী রক্ত পেরিয়ে, সোনা সোনা সোনা লোকে বলে, ও মাঝি নাও বাইয়া যায়রে, এক তারা তুই দেশের, প্রথম বাংলাদেশ আমার, মোদের গরব মোদের আশা, জন্ম আমার ধন্য হল, আমায় গেঁথে দেও না মাগো, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, প্রতিদিন তোমায় দেখি, কারা ঐ লৌহ কপাট, ও আমার দেশের মাটি, এ পদ্মা এ মেঘনা, বাংলা আমার মা, বাংলা মাগো, আমি জন্মেছি এ দেশে, ধনে ধন্যে পুষ্পে ভরা, জয় বাংলার জয়, সেই রেললাইনের মেটো পথে, মোরা বাংলার গান গাই, নোঙ্গর তোল, যায় যদি প্রাণ, মাগো ভাবনা, ভেবোনা মা, স্বাধীন স্বাধীন, বিজয় নিশান উড়ছে, শিকল পরা পায়, ঢাকা শহর রক্তে রাঙানো, শুন একটি মুজিব, তীর হারায়ে ঢেউর সাগর, মুক্তির এ পথ সংগ্রাম, আমার প্রতিবাদের ভাষা, আমার এই দেশ সব মানুষের, যে মাটির বুকে। মুক্তির সুরে বিজয়ের গানগুলো যুদ্ধচলাকালীন ও পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাঙালি জাতিকে সংস্কৃতি অঙ্গনেসহ বহি:বিশ্বে পরিচয় করেয়েছে লাল সবুজ পতাকাকে। এ জন্য আমরা গর্বিত, আমরা অনুপ্রাণিত, আমরা আনন্দিত। আমাদের দেশের গান এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, যা কখনোই ভাবে নি কোন শিল্পী। পৃথিবীর কোন দেশে তার দেশ নিয়ে এত গান আছে বলে আমার জানা নেই।

বিজয় আমাদের অহংকার। বিজয় দিবস আবার এসেছে। এবারের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ৫১ বছর অতিবাহিত করবে। একটি একটি করে ৫১ টি বছর পার করলাম, আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কি পেরেছি? এ প্রশ্নের জবাবে উত্তর এখন সহজে মিলে। নাটক, সিনেমা, সংগীত, বিজ্ঞাপন, যাত্রা, স্টেজ শো, বেতার, টেলিভিশন, স্যাটেলাইট চ্যানেল, এফএম রেডিও, দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সংবাদ সংস্থা, নিউজ এজেন্সী, অনলাইন পত্রিকা সব কিছুতে পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়ন হয়েছে, উন্নতি হয়েছে, উর্বর বেড়েছে। শুধুমাত্র পরিবর্তন হয় নি আমাদের রুচি মন মানসিকতার আর চিন্তা শক্তির। মানুষ ঠকানো আর দুই নম্বরী কাজ সমান তালে চলছে। কে কাকে মেরে বড় লোক হবে, এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। রাজনীতিতে দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন প্রকট হয়েছে। ৫১ বছরেও স্বপ্ন পূরণ হয় নি বাঙ্গালির। বিজয়ের ৫১ বছরেও চট্টগ্রামের শিল্পী সুরকার ও গীতিকাররা এখানো গান লিখা, সুর করা ও গান গাওয়াকে পেশা হিসেবে বেঁচে নিতে পারে নি আগামী ৫১ বছরেও সে স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় যারা আছেন, তারা পেরেছেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সুর সংগীতকে পেশা হিসেবে নিয়ে জীবন যাপন করছেন।

সংগীত শিল্পী শংকর দে বলেন, ‘দেশের গান যখন সুরকার হিসাবে সুর করি কিংবা গায়ক হিসাবে গায়, তখন অন্য রকম অনুভূতি হয়। দেশের গানের প্রতি ভাললাগা, সব সময় অনুপ্রাণিত করেছে। নতুন করে শুরু হোক বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নবযাত্রা। আর বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক নতুন আশার আলো স্বাধীনতার সুফল। সে ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরাবিস্কারের এক ব্রত নিয়ে আমরা যে অভিযাত্রা শুরু করছি, তা আমাদের সমাজে, রাষ্ট্রে, সম্ভাবনার শত পুষ্প বিকশিত করতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে।’

গীতিকার এস আনিস আহমেদ বাচ্চু বলেন, `দেশের গান বাঙালির চেতনার জাগরনের গান। বহু বিখ্যাত দেশের গান রয়েছে, যাতে দেশ প্রেম উৎসারিত হয়েছে চিরকালীন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, ভাব, স্বাধিকারের জন্য আত্মবলিদান এসব গানের মূল ভাব ও বিষয়। স্বাধীন বাংলার এ যুগের মায়েরা এখন ঘুম পাড়ানী গানের মত গুনগুনিয়ে দেশের গান গেয়ে শিশুকে ঘুম পাড়ায়। এ গান তারুণ্যের উচ্ছ্বাস জাগায়। আবার নতুন করে একটি শোষণহীন, অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার তরুণদের শপথ নেয়ায়। এসব গানের চাহিদা কখনো ম্রিয়মান হওযার নয়।

চট্টগ্রামে দেশের গান গেয়েছেন এমন শিল্পীরা হলেন প্রবাল চৌধুরী, মিহির লালা, মিহির কুমার নন্দী, আব্দুল মান্নান রানা, সুজিত রায়, মৃনাল ভট্টচার্য, মোস্তফা কামাল, নাজমূল আবেদীন চৌধুরী, জয়ন্তী লালা, উত্তম কুমার দত্ত, মানস পাল চৌধুরী, সাইফুদ্দীন মাহমুদ খান, আলমগীর আলাউদ্দিন, আবদুর রহিম, কায়সারুল আলম, আলাউদ্দিন তাহের, ফজলুল কবির চৌধুরী, শংকরদে, স্বপন কুমার দাশ, রুনা পারভীন, শিরিন আক্তার, আলেয়া আরিফ, অনামিকা তালুকদার, রুহি মোস্তফা, শাকিলা জাহান, নির্মল বৈদ্য, ফরিদ বঙ্গবাসী, কল্পনা লালা, সূবর্ণা রহমান, পলি শারমিন, দীপক আচার্য্য, সঞ্জিত আচার্য্য, তাপস চৌধুরী, রঞ্জন চৌধুরী, ইফতেখার সাদী, আলম আশরাফ, বোরহান উদ্দিন চৌধুরী টিপু, অচিন্ত্য কুমার দাশ, ত্রিদিব বড়ুয়া রানা, জয়শ্রী ধর টুম্পা, দিলরুবা মরিয়া, লুভনা হুমায়ন সুমি, শাহরিয়ার খালেদ, দিদারুল ইসলাম, দীপেন চৌধুরী, গাজী মওদুদুর রহমান, চন্দ্র শেখর দত্ত, তরুন বিকাশ লালা, ইকবাল পিন্টু, মারিয়া শারমিন মুন্নী, তাপস বড়ুয়া, সৈকত দাশ, মুন্না ফারুক, সুতপা চৌধুরী মুমু, জেবুন্নেসা পপি, রাজীব ভট্টচার্য্য, বীনা পানি চক্রবর্তী, রুবি দাশ গুপ্ত, রাজশ্রী আচার্য্য, দীলিপ দাশ, নজরুল ইসলাম মাহমুদ, মিয়া মো. বদরুদ্দিন, কাশপিয়া, কান্তানন্দী, রোকশেদ খান, মনোজ সরকার, আকলিমা আক্তার মুক্তা, কেয়া লাহড়ী, হাসান জাহাঙ্গীর, রতন কুমার বড়ুয়া, মিতানুর, শাপলা পাল, বদরুল হাসান টিটু, জুয়েল পাল, রিকু দাশ, হানিফ চৌধুরী, অনন্যা দাশ গুপ্তা, তন্ধী দত্ত, সঞ্জয় চৌধুরী, ইমতেখাব আলম মান্না, পাপিয়া আহমেদ, হৈমন্তি রক্ষিমান, চৈতি মুৎসুদ্দী, প্রিয়া ভৌমিক, নিশিতা বড়ুয়া, রন্টি দাশ, অরিন, শারমিনা চৌধুরী তিনা, শর্মিলা বড়ুয়া, মাহবুবুল আলম, খোদেজা বিথি, ডেজি, হুমায়ুন চৌধুরী, জাহিদ হোসেন, দেবরাজ দত্ত ডেবিট, সাজিয়া মুমতাহিনা নিহা, ফারজানা সালাউদ্দিন, সাবিনা ইয়াসমিন, কামরুল আজম চৌধুরী টিপু, আবুল কাশেম, কাজল চৌধুরী, সুষ্মিতা মাওলা, ফরিদা করিম, ফাহমিদা রহমান, নুসরাত জামান স্নিগ্ধা, ইকবাল হায়দার, জনি খন্দকার, মিলন আচার্য্য, শিমুল শীল, লোকমান চৌধুরী রাশু, মোহাম্মদ হোসেন, নাদিরা পারভীন পারুল, হারুন উর রশিদ, নিহা, নুপুর আক্তার, আবদুস সাত্তার, প্রফুল্ল রঞ্জন, শরন বড়ুয়া, নির্বাচিতা মুৎসুদ্দী, সুপর্না রায় চৌধুরী, কাকলী দাশ গুপ্ত, কৃষ্ণা দাশ, শিলা চৌধুরী, কুশল দে, শিউলী মজুমদার, কলি চৌধুরী, এহসানুল করিম, নারায়ণ দাশ, তাহমিনা আক্তার, সাব্বির, রাশেদ, লুবনা জান্নাত, মো. মঞ্জুরুল আলম, নির্মল বৈদ্য।

সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক ফজলুল কবির চৌধুরী বলেন, ‘দেশ আমার মা, আমার জন্মভূমি। তাই, দেশের প্রতিটি মানুষের ভালবাসা আমার হৃদয়ে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ধুলিকনা আমার শরীরের সাথে শ্বাস প্রশ্বাসে প্রতিনিয়ত মিশে আছে। সে মাটির মায়া মমতা এখনো আমাকে আপ্লুত করে। তাই দেশের গানের প্রতি আমার দূর্বলতা সব সময় বেশি কাজ করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে দেশকে ভালবাসি। তাই সর্বদা দেশের গানের প্রতি মমত্ববোধ রয়েছে সংগীত জীবনের শুরু থেকে। মা মাটি ও মানুষের কথা সুরের মাধ্যমে বলতে পারলে বুঝব, আমার ঋণ কিছুটা অন্তত পরিশোধ করতে পেরেছি। দেশের গান, দেশের মান, সংগীতের প্রাণ। আওয়াজ তুলি দেশকে ভালবাসি দেশের জন্য সর্বদা ত্যাগ করতে প্রস্তুত আছি। এগিয়ে যাক সুন্দর আগামীর পথে।’

গীতিকার জসিম উদ্দিন খান বলেন, ‘৭১’র ১৬ ডিসেম্বর। জীবন জয়ের গৌরবে দীপ্ত সূর্য মহিমায় উদ্ভাসিত আমাদের বিজয় দিবস। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এ বিজয় কারো একার নয়। এ গৌরব কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ নারী-পুরুষ সব জনতার। যাদের আত্মত্যাগে আমাদের এ অর্জন বিজয়ের গৌরবে তাদের স্মরণে রচিত হয়েছে হাজারো দেশের গান। গানে গানে সশ্রদ্ধ হৃদয়ে জাতি তাদের মনে রাখবে চিরকাল। চট্টগ্রামে সর্বাধিক দেশের গান সুর করেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজিত রায় ও বানী কুমার চৌধুরী, মৃনাল ভট্টাচার্য। তাদের সুরকরা গান চট্টগ্রামে প্রথম সারির সব শিল্পীরা গেয়েছেন।’

রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য। বিজয়ের চার দশক পার হলেও আমরা সে লক্ষ্য আজও পুরোপুরি অর্জন করতে সক্ষম হই নি। ১৯৭৫ সালের স্বাধীনতা বিরোধী চক্র জাতির জনককে হত্যা করে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথকে রুদ্ধ করে। পরবর্তী আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথও মসৃণ ছিল না। ফলে আমরা পিছিয়ে পড়ি কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে। আমাদের রয়েছে উন্নয়নের সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সকলে এক যোগে কাজ করলে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব- এ হোক বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।’

দেশের গান সুর করেছেন বানী কুমার চৌধুরী, সুজিত রায়, প্রবাল চৌধুরী, আব্দুল মান্নান রানা, সাইফুদ্দীন মাহমুদ খান, সৈয়দ মহিউদ্দিন, পাপিয়া আহমেদ, আলমগীর আলাউদ্দিন, আলাউদ্দিন তাহের, দীপক আচার্য্য, সঞ্জিত আচার্য্য, মানস পাল চৌধুরী, ফজলুল কবির চৌধুরী, অশ্রু বড়ুয়া, নির্মল বৈদ্য, মো. সাহাবুদ্দীন, তাপস চৌধুরী, স্বপন কুমার দাশ, তাপস বড়ুয়া, প্রকাশ চন্দ্র শীল, সৈয়দুল হক, মৃনাল ভট্টাচার্য, জালাল আহমেদ, আবু তাহের চিশতি, এসএম ফরিদ, আলম আশরাফ, মো. সাহাবুদ্দিন, আজম চৌধুরী।

জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে দেশের গান করেছেন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, আবদুল জব্বার, আবদুল হাদী, খুরশিদ আলম, এন্ড্রু কিশোর, খালিদ হাসান মিলু, কুমার বিশ্বজিৎ, তপন চৌধুরী, কনক চাঁপা, মনির খান, বাদশা বুলবুল, ডলি সায়ন্তনী, এসডি রুবেল, আঁখি আলমগীর, রবি চৌধুরী, জিনাত জাহান মুন্নী, আসিফ আকবর, সামিনা চৌধুরী, শাম্মী আকতার, আবিদা সুলতানা, শাহনাজ রহমত উল্ল্যা, ফাতেমাতুজ জোহরা, আইয়ুব বাচ্চু, নাসিম আলী খান, নকিব খান, পার্থ বড়ুয়া, ফরিদা পারভীন, মমতাজ, শাকিলা জাফর, আতিক হাসান, আলম আরা মিনু, মেহরীন, এসআই টুটুল, বশির আহম্মদ, রফিকুল আলম, বেবী নাজনীন, ইন্দ্রে মোহন রাজবংশী, ইয়াসমিন মুশতারী, কনা, কানিজ সূবর্ণা, কিরণ চন্দ্র রায়, চন্দন সিনহা, ঝুমুখান, দিলরুবা খান, নিযাজ মোহাম্মদ চৌধুরী, পলাশ, ফকির আলমগীর, ফাহমিদা নবী, ফেরদৌস ওয়াহিদ, বাপ্পা মজুমদার, বারী সিদ্দিকী, লাকী আখন্দ, শবনব মুশতারী, শুভ্রদেব, আগুন ও আজম খান।

কাঙ্খিত স্বপ্নের সোনার বাংলা- যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য থাকবে সম্ভাবনার অপার দিগন্ত। হিংসা বিদ্বেষ, হানাহানি, সংঘাত, সহিংসতা বন্ধ হোক, হাসি ফুটুক ১৮ কোটি মানুষের মুখে। গানে গানে, সুরে সুরে বিজয় দিবস পালিত হোক, বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে। বিজয়ের এ দিনে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি।

লেখক: সাংবাদিক ও গীতিকার