রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

শিরোনাম

বিয়ানীবাজারে পরিত্যক্ত কূপে গ্যাসের সন্ধান, দিনে মিলবে ৭-৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১০, ২০২২

প্রিন্ট করুন

বিয়ানীবাজার, সিলেট: সিলেট জেলার বিয়ানীবাজারে গ্যাস ফিল্ডের একটি পরিত্যক্ত কূপ খনন করে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) সকালে এ কুপে গ্যাসের মজুদ থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় বাপেক্স। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের পরিত্যাক্ত এক নম্বর এ কুপ খনন শুরু করে বাপেক্স।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, শীগগির এ কুপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হবে। প্রতিদিন এ কুপ থেকে সাত থেকে আট মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস ও ১০০ ব্যারেল কনডেনসেট সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশাবাদী রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাপেক্স।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহীনুর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে গণ মাধ্যমকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের এক নম্বর কূপটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর হতে প্রায় দুই মাস এক নম্বর কুপে পুনঃ খনন কাজ চালিয়ে ওই কূপের তিন হাজার ৪৫৪ মিটার গভীর থেকে পরীক্ষা করে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। পরীক্ষামূলক অবস্থায় দশ মিলিয়ন গ্যাস প্রবাহ হচ্ছে ও গ্যাসের চাপ রয়েছে তিন হাজার ১০০ পিএইচ। ওই কূপটিতে আগামী তিনদিন পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শেষে তখন এ কূপ থেকে কি পরিমাণ গ্যাস দেয়া সম্ভব হবে, তা নিশ্চিত করা যাবে। তবে, মনে করা হচ্ছে দৈনিক সাত থেকে আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও প্রায় ১০০ ব্যারেল কনডেনসেট সরবরাহ করা যাবে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের অধীন বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রে দুইটি কূপ রয়েছে। ১৯৮১ সালে ওই দুটি গ্যাস কুপের খনন কাজ শুরু হলেও এক নম্বর কূপ থেকে ১৯৯৯ সালে উৎপাদন শুরু হয়। ২০১৪ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। ফের ২০১৬ সালের শুরুতে ফের উৎপাদন শুরু হয়ে ফের ওই বছরের শেষদিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর এক নম্বর কূপে চলতি বছরের ১০ সেপ্টম্বর থেকে ফের গ্যাসের সন্ধানে খননকাজ শুরু করে রাষ্ট্রয়াত্ত গ্যাস উত্তোলন কোম্পানি বাপেক্স।

এসজিএফএল’র অধীনে থাকা পরিত্যক্ত গ্যাস কূপগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৈলাশটিলা-২, রশীদপুর-২, রশীদপুর-৫ ও হরিপুর-৭ মোট চারটি কুপ ফের খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে চারটি কূপের খনন শুরু হবে ও সেখানেও গ্যাস প্রাপ্তির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম জানান, ওই কুপে খনন শুরুর আগে ডিপিপিতে ধরা হয়েছিল এখানে প্রতিদিন পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলতে পারে। তবে এখন মনে হচ্ছে আরো বেশিই পাওয়া যাবে।’

গ্যাসের এ সংকটকালীন এটা দেশের জন্য আশির্বাদ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান মেলে। এরপর আবিষ্কৃত হয় আরো বেশ কিছু গ্যাসক্ষেত্র। দেশে বর্তমানে ২৮টি আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্র থেকে বর্তমানে ১১৩টি কূপ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে।