সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

শিরোনাম

বিশেষজ্ঞদের দাবি/৫৩ বছর পূর্বে নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ মিলল হ্রদে

সোমবার, জুন ১৭, ২০২৪

প্রিন্ট করুন

বার্লিংটন, ভারমন্ট, যুক্তরাষ্ট্র: নিখোঁজ জিনিসের সন্ধান পাওয়া খুবই রোমাঞ্চকর। যদি সেটি হয় অর্ধশত বছরের পূর্বের জিনিস, তাহলে তো কথাই নেই। সম্প্রতি এমন একটি নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ধারণা, ধ্বংসাবশেষটি ৫৩ বছর পূর্বে নিখোঁজ হওয়া একটি বিমানের। যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটন শহর থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি নিখোঁজ হয়েছিল। সংবাদ এনডিটিভির।

১৯৭১ সালে ভারমন্টের বার্লিংটন শহর থেকে রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রোভিডেন্স শহরের দিকে যাচ্ছিল বিমানটি। তুষারপাতের রাতে এটি ভারমন্টের চ্যামপ্লেইন লেকে নিখোঁজ হয়। ৫৩ বছর পর সেই বিমানেরই ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা জানালেন এক দল বিশেষজ্ঞ।

দশ আসনের বাণিজ্যিক বিমানটিতে উড্ডয়নের সময় পাঁচজন আরোহী ছিল। উড্ডয়নের পরপরই হারিয়ে যায় বিমানটি। বহু খোঁজাখুঁজির পরও পাওয়া যায়নি। এটিকে খুঁজে পেতে অন্তত ১৭ বার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু, তীব্র শীতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়।

সম্প্রতি রিমোট কন্ট্রোল যান দিয়ে অনুসন্ধান চালায় বিশেষজ্ঞ ডুবুরি গ্যারি কোজাক ও তার দল। এ অনুসন্ধান অভিযানে ভাল ফল পেয়েছেন তারা। বার্লিংটন রেডিও কন্ট্রোল টাওয়ারের মাধ্যমে একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষের খোঁজ মিলেছে। জুনিপার দ্বীপের কাছে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে ধ্বংসাবশেষটিকে শনাক্ত করা হয়েছে।

গ্যারি কোজাক সোমবার ((১০ জুন) ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘এ সব প্রমাণের ব্যাপারে তারা ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত। এটিই সেই বিমান ধ্বংসাবশেষ। এটি সেই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে তাদের বহু প্রশ্নের উত্তর দেবে। এর মাধ্যমে তারা একটি উপসংহারে পৌঁছতে পারবে।’

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার কৃতজ্ঞতা জানালেও নতুন করে বহু প্রশ্ন উঠেছে ও তাদের পুরনো কষ্ট ফের সামনে এসেছে।

পাইলট জর্জ নিকিতার ভাতিজি বারবারা নিকিতা মঙ্গলবার (১১ জুন) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিমানটিকে খুঁজে পাওয়ার সংবাদ শান্তির অনুভূতি দিচ্ছে। একই সাথে এটি দুঃখ দিচ্ছে।’

ওই বিমানের আরোহী ফ্রাঙ্ক ওয়াইল্ডারের ছেলে বলেন, ‘বিমানটি হ্রদে ছিল না কি পাহাড়ের ধারে ছিল, তা জানতাম না। এটি না জেনে ৫৩ বছর পার করা খুব কষ্টকর ছিল। কিন্তু, এখন আমি স্বস্তি বোধ করছি। কারণ, আমি জানি, বিমানটি কোথায় আছে।’

নিখোঁজ বিমানটি খুঁজে বের করতে গ্যারি কোজাকের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন ওই বিমানে থাকা আরেক আরোহীর সন্তান চার্লস উইলিয়ামস। তিনি বলেন, ‘বিমানটি উদ্ধার করা ব্যয়বহুল প্রচেষ্টা হবে।’

বর্তমানে ধ্বংসাবশেষটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা বোর্ড (এনটিএসবি) যাচাই করছে। এ ছাড়া বিমানটির অবস্থান জানা যাওয়ায় নিহত আরোহীদের স্বজনরা স্মৃতিসৌধ তৈরির পরিকল্পনা করছেন।