মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

শিরোনাম

মেয়র ভার্গাসের আন্তরিকতায় ক্যালিফোর্নিয়ার পেরিসে নির্মিত হল ‘শহীদ মিনার’

শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

প্রিন্ট করুন

পেরিস, ক্যালিফোর্নিয়া: বাংলাদেশে বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ‘শহীদ মিনার’ স্থাপন করা হয়েছে যুুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পেরিস সিটির একটি পাবলিক হলের সামনের পার্কে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে সেখানে প্রবাসীরা ছাড়াও এলাকার ভিনদেশীরা প্রভাত ফেরীসহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। লসএঞ্জেলেস সিটি থেকে ৭১ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এক সময়ের রেলওয়ের সিটি হিসেবে খ্যাত পেরিস সিটিতে প্রায় দশ হাজার বাংলাদেশি বসতি গড়েছেন। প্রায় সবাই ছিলেন লসএঞ্জেলেস অথবা ওরেঞ্জ কাউন্টির বাসিন্দা। এখানকার বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি ও সংগ্রামী চেতনার সাথে জড়িত আছেন তারা। সে আলোকেই পেরিস সিটিতে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় কাঠের ফ্রেমে শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের কর্মসূচি চালু হয় ২০১২ সালে।

কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মো. খলিলুর রহমান রাজু জানান, ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে ইনক’ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে ‘শহীদ দিবস’ উদযাপনের কর্মসূচি সূত্রেই ২০২০ সালে পেরিস সিটির মেয়র মাইকেল এম ভার্গাসের কাছে একটি স্মারকলিপি দেই স্থায়ীভাবে শহীদ মিনারের জন্য। এরপরই সিটি মেয়র আমাদের দাওয়াত দেন, তার অফিসে। আমরা দশজন সেখানে যাওয়ার সময় শহীদ মিনারের একটি নমুনাও (কাঠের তৈরি) সাথে নিয়ে যাই। তা দেখে মেয়র সম্মত হন ও জানান, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সবকিছু করা হবে। মেয়রের আন্তরিকতার কারণে খুব দ্রুত সিদ্ধান্তটি হয় ও গত সেপ্টেম্বরে শুরু হয় নির্মাণ কাজ। ব্যয় হয় এক লাখ ৮৭ হাজার ডলার। সিটি বিউটিফিকেশন ফান্ড থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর গত ২ ডিসেম্বর আমরা তা পরিদর্শন করি। সাথে ছিলেন লসএঞ্জেলেসের কন্সাল জেনারেল সামিয়া আঞ্জুম।’

সিটি মেয়রের সাথে আলোচনার সময় ছিলেন ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদাল ল্যাঙ্গুয়েজ ইনক’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ খলিলুর রহমান রাজু, বর্তমান সভাপতি শহীদ আহমেদ মিঠু, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল শাহীন, সহ-সভাপতি টিটো ইসলাম, অ্যাম্বাসেডর শওকত আলম, কনভেনর সাঈদ হিমু, জনসংযোগ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল, উপদেষ্টা সাইফুর ওসমানী জিতু, ইসমাইল হোসেন ও মোহাম্মদ আলী।

খলিলুর রহমান বলেন, ‘আলোচনায় সবাই অভিভূত হই, মেয়রের মাতৃভাষার প্রতি টান দেখে। মেক্সিকান আমেরিকান এ মেয়র বলেন, ‘‘মাতৃভাষার জন্য সংগ্রামের পথ বেয়ে বাঙালিরা স্বাধীন একটি ভূখণ্ড লাভ করেছেন- এটি ইতিহাসে বিরল ঘটনা। বাঙালির এ ত্যাগের কথা সব ভাষা-ভাষী মানুষকে জানানোর প্রয়োজন রয়েছে ভীষণভাবে। এ শহীদ মিনার হয়ে উঠবে সেই আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু। এছাড়া, এটি পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে নির্মিত হওয়ায় ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কৌতুহলের অবসানও ঘটাতে সক্ষম হবে।’