রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪

শিরোনাম

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন লিজ ট্রাস

সোমবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী লিজ ট্রাস। এ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনিই হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

কনজারভেটিভ পার্টির নতুন প্রধান লিজ ট্রাস মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্কটল্যান্ডের বালমোরালে সাক্ষাৎ করবেন রানি এলিজাবেথের সাথে। সেখানে ক্ষমতাসীন দলটির নতুন প্রধানকে সরকার গঠন করার আহবান জানাবেন রানি। ২০১৫ সালের পর লিজ ট্রাসই হচ্ছেন ব্রিটেনের চতুর্থ কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে থাকা আরেক প্রার্থী ঋষি সুনাকের বিপরীতে লিজ ট্রাসের জয়ের ব্যবধান নিয়ে কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির সদস্য, ১৯২২ কমিটির চেয়ারম্যান স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডি। তিনি জানান, কনজারভেটিভ পার্টির ৬০ হাজার ৩৯৯ জন সদস্যের ভোট পেয়েছেন সুনাক। আর ট্রাস পেয়েছেন ৮১ হাজার ৩২৬ ভোট। ভোট পড়েছে ৮২ দশমিক ছয় শতাংশ।

দীর্ঘ দিন ধরে নানা ইস্যুতে চাপের মুখে থাকা বরিস জনসন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতার পদ থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য হওয়ার পর শুরু হয় তার উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনে ভোটাভুটি শেষ হয়েছে আগেই। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) যার ফল ঘোষণা হল।

কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত নতুন নেতা লিজ ট্রাসই যাচ্ছেন দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে।

প্রায় দুই মাস ধরে চলা কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় লিজ ট্রাসের প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন সাবেক চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক। বিবিসি জানায়, সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নতুন প্রধানের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বরিস জনসনের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

নির্বাচনের জন্য যুক্তরাজ্যে এবার সাধারণ ভোট হয় নি। এর পরিবর্তে বরিসের উত্তরসূরি নির্বাচন করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা। ব্রিটেনে যখন কোন প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদকালের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তখন সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করা হয় না। এর পরিবর্তে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা কেবল একজন নতুন নেতা বেছে নেন।

বরিস জনসন যখন পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন, তখন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ও দলের সদস্যদের পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল তার উত্তরসূরি বেছে নেয়া। এ বাছাই প্রক্রিয়ার প্রথম রাউন্ডে পার্লামেন্টে শুধুমাত্র কনজারভেটিভ পার্টির এমপিরা ভোট দেন। কয়েক দফার এ ভোট শেষে দুইজন প্রার্থী বিজয়ী হন। আর তারা হলেন বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী লিজ ট্রাস ও সাবেক অর্থমন্ত্রী বা চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার ঋষি সুনাক।

একাধিক প্রকাশ্য জনসভায় ও টেলিভিশন বিতর্কে পরস্পরের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হতে দেখা গেছে দুইজনকে। নির্বাচনের প্রাথমিক পর্বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুনাক এগিয়ে থাকলেও, ক্রমশ ব্যবধান কমাতে থাকেন লিজ ট্রাস। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ট্রাসের দিকেই পাল্লা ভারী ছিল।

অক্সফোর্ডের মেরটন কলেজে পড়াশোনা করেছেন ট্রাস। সে সময় লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন তিনি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রেসিডেন্ট ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট যুব ও ছাত্রদের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন লিজ ট্রাস। তবে ১৯৯৬ সালে স্নাতক হওয়ার পর যোগ দেন কনজারভেটিভ পার্টিতে।

২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হন লিজ ট্রাস। নির্বাচিত হয়েই শিশুযত্ন, গণিত শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ দেশের বেশ কয়েকটি নীতির ক্ষেত্রে সংস্কারের আহবান জানিয়ে আলোচনায় আসেন।

এরপর ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের নারী ও সমতা বিষয়ক মন্ত্রী ও ২০২১ সাল থেকে পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করন মেরি এলিজাবেথ ট্রাস। লিজ ট্রাস অর্থনৈতিকভাবে নব্য উদারনৈতিক ও সামাজিকভাবে রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির সাথে যুক্ত।