বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

রাউজানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে ঘর নির্মাণ, পানি বন্দী ২৫ পরিবার

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২

প্রিন্ট করুন

এম মতিন: চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় নোয়াপাড়ার পালোয়ান পাড়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের পথ ভরাট ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মানের অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগের তীর উপজেলার নোয়াপাড়ার পাঁচ নম্বর রোডস্থ পলোয়ান পাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র জসিম উদ্দিন মানিক ও তার ভাই মো. এনামের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় পালোয়ান পাড়া এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার মেয়ে ভুক্তভোগী রুজি আকতার বাদী হয়ে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন।

আদালত ওই জমিতে ১৪৫ ধারা জারি করেছেন এবং বিরোধীয় ভুমি তদন্ত পূর্বক দখল, মালিকানার নির্ধারিত ছক মোতাবেক স্কেচ ম্যাপসহ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাউজান থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শোনানির দিন ধার্য্য করেছেন আদালত।

কিন্তু আদালতের ১৪৫ ধারা জারি থাকলেও জসিম উদ্দিন মানিক ও মো. এনাম আদালতের আদেশ অমান্য করে বর্তমানে ভবন নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

মামলার এজাহারে রুজি আকতার বলেন, ‘রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া মৌজার বিএস ১১৩৪ খতিয়ানের বিএস ১৬৮৪৬ ও ১৬৮৪৭ দাগের তিন শতক জমির মালিক বাদশা মিয়া তথা রুজি আকতারের পৈত্রিক বসত ভিটা। তাদের বসতভিটার সীমানা দেয়ালের লাগোয়া তফসিলোক্ত পাঁচ ফুটের একটি পানি নিষ্কাশনের পথ (নালা) উন্মুক্ত রেখেছিল। যা দিয়ে গ্রামবাসীর (২৫টি পরিবারের) পানি চলাচল করত।’

ভুক্তভোগী পরিবার জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে ওই পানি নিষ্কাশনের পথ জবর-দখলে নিয়ে ভরাট করে ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন মানিক ও মো. এনাম। ফলে পানি বন্দী হয়ে পড়ে ২৫ পরিবার। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়ায় কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিতে উঠোন ভর্তি পানিতে টইটম্বুর হয়ে পড়ে। ফলে গত আট দিন ধরে পানি বন্দি হয়ে দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন রুজির পরিবার।

এ নিয়ে মো. এনাম বলেন, ‘আমাদের পৈত্রিক জমি ভরাট করে আমরা বাড়ি নির্মাণ করেছি। কোন পানি চলাচলের পথ বন্ধ করি নি। বরং আমার বাড়ির পাশ দিয়ে একটি ছয় ইঞ্চির পিভিসি পাইপ দিয়ে
পানি চলাচলের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছি। সেখান দিয়ে পানি চলাচল করছে।’

এ জায়গার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি কোন নিষেধাজ্ঞা পাই নি। তাছাড়া আমি আমার নিজের তফসিলোক্ত জমিতে কাজ করছি।’

রুজি আকতার বলেন, ‘চারজন বৃদ্ধ মহিলা নিয়ে আমি নিজেও অসুস্থ। গত চার দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় ঘরে আছি। জলাবদ্ধতার কারণে কোথাও যেতে পারছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চাই।’

এ ব্যাপারে রাউজান থানার মগদাই পুলিশ বিটের উপ পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, ‘আদালতের আদেশে ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আদালতের আদেশ অমান্য করলেই অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’