সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

শিরোনাম

রিভিউ: অনবদ্য সৃষ্টি ‘মেইড ইন চিটাগং’

শুক্রবার, নভেম্বর ১৮, ২০২২

প্রিন্ট করুন

সাবের শাহ: দুই দিন আগেই ইন্টারভিউ নেয়ার সুযোগ পেয়ে ‘মেইড ইন চিটাগং’ টিমকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, চট্টগ্রামের ফিকশনগুলো তো হালকা মেজাজের হয়, সে দিক থেকে এ সিনেমাটা বের হতে পেরেছে কিনা? উত্তর আজ প্র্যাকটিকালি পেলাম। গল্প নির্ভর, জোড় করে হাসানোর চেষ্টা নেই, সাবলীল অভিনয়, অসাধারণ সব সংলাপ – সবকিছু মিলিয়ে অনবদ্য সৃষ্টি ‘মেইড ইন চিটাগং।’

সিনেমার অর্ধেকেরও বেশী অংশ যাওয়ার পর যখন বিরহী সুরে শিরীণ গেয়ে ওঠেন ‘ও হালাছান…. তখনই আসল ধাক্কাটা লাগে! সেই সুরই তো! সেই মায়ায় তো! যে মায়া গত কয়েক দিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন কেউ কেউ! যারা সমালোচনায় মেতেছিলেন, তাদের জন্য জবাবটা সিনেমা হলেই!

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, কোন সিনেমার ৮০ শতাংশেরো বেশী সংলাপ কীভাবে এত অর্থবহ হয়? প্রত্যেকটি সংলাপেই চট্টগ্রামের সংস্কৃতি, সমাজ, পরিবার, ইতিহাস অপূর্ব সুন্দর করে ফুটে উঠেছে। স্ক্রিপ্ট রাইটার রিয়াদ ভাই একটা বাহ্বা পাওয়ার যোগ্য!

অভিনয়ে নাসির উদ্দিন খান যেখানে আছেন, সেখানে আসলে বলার কিছু নাই! লা জওয়াব! দশ বছর পর অভিনয়ে ফিরে আজাদ ভাই বাজিমাত করেছেন, মুন্সী চরিত্রে ইফরাদ আবেদ খুব ভাল করেছেন। হিন্দোল দাদাও তার চরিত্রে পারফেক্টলি ফিট, চট্টগ্রামের কাজে চিত্রলেখা গুহের বিকল্প এখনো তৈরি হয় নি। পার্থ বড়ুয়ার দাদা অনবদ্য, তার জায়গায় আর কাউকে কল্পনা করা যাবে না। তবে এ সিনেমার সেরা অভিনয়শিল্পী নির্বাচনের দায়িত্ব পেলে আমি দ্বিধাহীনভাবে বেছে নিব অপর্ণা ঘোষকে! এতটা সাবলীলভাবে চট্টগ্রামের আসল আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার পাশাপাশি এত অনবদ্য অভিনয়, সত্যিই একটা পুরস্কারের দাবি রাখে।

পুরো সিনেমাই বেশ আনন্দ নিয়ে দেখলাম, আউটডোর সিনের কালার কারেকশন ছাড়া আর কোন ত্রুটিই চোখে পড়েনি।

সিনেমা শেষে নুরজাহান, সোলায়মান, শাহজাহান আর ফইরের জন্য ফেড ফুরবেই!

লেখক: বিতার্কিক ও উপস্থাপক, চট্টগ্রাম