মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪

শিরোনাম

সরকার ব্যাংক থেকে ধার করে এবং আইএমএফের ঋণের ওপর ভর করেই চলছে

শনিবার, জুন ২৪, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রাম: প্রয়াত জিয়াউর রহমান শিশুদের ভালবাসতেন বলেই নতুন কুঁড়ি পুরুষ্কার চালু করে ছিলেন উল্লেখ করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার বলেছেন, ‘শিশু একাডেমি জিয়াই চালু করে ছিলেন। জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা না দিলে আজ আমরা স্বাধীন হতাম না। একটি সরকার যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় না, তখন জনগণের কোন দাবির দিকে তাদের খেয়াল থাকে না। তাদের খেয়াল থাকে শুধু যেনতেনভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। প্রয়োজনে তারা রাষ্ট্রযন্ত্র যারা চালাচ্ছে, তাদের পেছনে টাকা খরচ করবে। কিন্তু, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাবে না। যদিও বিদ্যুতের জন্য কুইক রেন্টালের নামে কুইক পদ্ধতিতে টাকা তারা পাচার করে দিয়েছে। ক্যাপাসাটি চার্জের নামে

শনিবার (২৪ জুন) দুপুরে সিটির লাভলেনস্থ চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক মিলনায়তনে জিয়ার রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা পক্ষ থেকে চিত্রাংকন, কবিতা আবৃতি ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এমএ হালিম।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে গোলাম আকবর আরো বলেন, ‘বিএনপি এখন চালকের আসনে বসে আছে। জনগণ চাইলে এ টালমাটাল দুর্নীতিবাজ সরকারকে যে কোন মুহূর্তে গদি ছাড় করতে পারেন। কারণ, তাদের সাথে এখন জনগণ নেই। আছে কিছু দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী। তাই, জনগণের প্রতি তাদের বিশ্বাস নাই বলেই আরেকটি যেনতেন প্রকারের নির্বাচনের পায়তারা চালাচ্ছে। তারা ফের নতুন করে গায়েবী আসমানী মামলা শুরু করেছে। এ মামলায় আসামী করা হচ্ছে, যারা মৃত্যুবরণ করেছে, বিদেশে আছে ও জেলে আছে তাদেরকে। ২০১৮ সালেও রাতে বজ্রপাত হয়েছে আর সকালে মামলা দিয়েছে বোমা ফাটিয়েছে বলে। আজকে জনগণের মৌলিক অধিকার নিঃশেষ হয়ে গেছে। মানুষ পিছু হটতে হটতে এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। মানুষ এখন সামনের দিকে আগাচ্ছে, জেগে উঠেছে।’

প্রধান বক্তা বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবে রহমান শামীম বলেন, ‘এ সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোটাধিকার প্রয়োগ ভোটকে মিউজিয়ামের তুলে রেখেছে। দেশের গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক ও মৌলিক অধিকার আজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে এ সরকার। আওয়ামী লীগ একদলীয় সরকার কায়েম করে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠাচ্ছে। মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে বন্দি করে রেখেছে। আমরা দ্রুত এ সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। দেশের মানুষের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে হবে। ভোটার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।অন্যতায়, এ দেশের তরুণ সমাজ তাদের ভোটার অধিকার ফিরিয়ে নিতে এ স্বৈরাচার সরকারকে পদত্যাগ করেই রাজপথ ছাড়বে।’

বিশেষ অতিথি বিএনপির গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক ও চিত্রাংকন, কবিতা আবৃতি ও কুইজ প্রতিযোগিতার চট্টগ্রাম বিভাগীয় আহবায়ক বেলাল আহম্মদ বলেন, ‘মহাবিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। দেশের অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাওয়ার কোন লক্ষণ নেই। বরং সঙ্কট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সবকয়টি সূচকই আরো দুর্বল ও প্রকট হয়ে উঠেছে। অসহনীয় মূল্যস্ফীতি, নজিরবিহীন ডলার সঙ্কট, ডলারের বিনিময়ে টাকার অভূতপূর্ব অবমূল্যায়ন, ব্যাংকিং ও আর্থিক অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শী ভ্রান্তনীতি, অদক্ষ ও দলকানা নীতি বৈষম্য, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, বিদেশে অর্থপাচার, ঋণ প্রাপ্তির অপর্যাপ্ততা, সুশাসনের অভাব, সামাজিকÍরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আয় বৈষম্য ও সর্বোপরি গণতন্ত্রহীনতা বর্তমান অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের মূল কারণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কঠিন শর্তে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে। বলতে গেলে সরকার এখন ব্যাংক থেকে ধার করে এবং আইএমএফের ঋণের ওপর ভর করেই চলছে।’

বিশেষ অতিথি বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, চিত্রাংকন, কবিতা আবৃতি ও কুইজ প্রতিযোগিতার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদস্য সচিব মীর হেলাল বলেন, ‘সরকার দেশের গণতান্ত্রকি ব্যবস্থাকে হত্যা করে দেশবাসীকে উন্নয়নের কথা বলছে। মূলত তারা উন্নয়নের নামে দুর্নীতি লুটপাটে ব্যস্ত। আওয়ামী লীগ সরকার যারা জোর করে ১৪ বছর ক্ষমতা দখল করে আছে; তারা অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আজকে মানুষের ভোটাধিকার অধিকার নাই। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারিনি। আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার ফের নতুন খেলা শুরু করেছে। আওয়ামীগ শুধু নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করেনি; দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকেও ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে যে ঢাকঢোল পিটিয়েছে, যে টাকা খরচ করেছে এখন সেটা কোথায়? আজ সারা দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করছে না। বিএনপি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করছে।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাসাসের সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠাণে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইউনুস চৌধুরী, আজিম উল্লাহ বাহার, জসিম উদ্দীন চৌধুরী, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, আতিকুল ইসলাম লতিফি, জাসাসের সদস্য আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরী, মহানগর জাসাসের সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ শিপন, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব শফিউল আলম চৌধুরী, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, মনিরুল আলম জনি, ফজল বারেক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলী আকবর, রফিকুল ইসলাম হামিদি, তসরিমা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক আশরাফউল্লাহ, সহ-সভাপতি মির্জা মেশকাত হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম, মিরসরাই উপজেলা সাধারণ সম্পাদক, মাসুম বিল্লাহ, ফটিকছড়ি উপজেলার আহবায়ক আমির রায়হান চৌধুরী, নুরুল আমিন।