রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

শিরোনাম

সোমালিয়ার জলদস্যুদের প্রশংসা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে

শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪

প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রাম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও বিএনপি বহু বেশি ভয়ঙ্কর। কারণ, সোমালিয়ার জলদস্যুরা আমাদের নাবিকদের উপর কোন নির্যাতন চালায়নি। তারা মানুষ পুড়িয়ে খুন করে নাই। কিন্তু, বিএনপি তো মানুষ পুড়িয়ে খুন করে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীদের নেতৃত্বে বিএনপি বহু সময় সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে।’

শনিবার (১৩এপ্রিল) বিকালে চট্টগ্রাম সিটির লালদিঘী চত্বরে ‘চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। এ সময় সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়ে বাংলাদেশের দস্যুরা বেশি ভয়ঙ্কর, বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এমন বক্তব্যের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের মানুষ খুব দুঃখ ও কষ্টের মধ্যে আছে, সাধারণ মানুষ ভালভাবে ঈদ পালন করতে পারেনি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘হয়তো মির্জা ফখরুল সাহেবদের মনে শান্তি নাই, উনাদের মনে অশান্তি বিধায় বাংলাদেশের মানুষের মনে শান্তি নাই বলছেন। মানুষের মনে সম্প্রীতি ও উৎসব আছে।’

তিনি বলেন, ‘দেখুন, এবার ঈদ অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে, ও হচ্ছে। মানুষ এখনো ঈদ উৎসবের মধ্যে আছে। আপনারা দেখেছেন, ঈদযাত্রাও এবার বহু নির্ঝঞ্জাট ছিল। ঈদের সময় বহু ঘটনা ঘটে। সে ধরণের দূর্ঘটনা এবার অপেক্ষাকৃত বহু কম ঘটেছে এবং মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়েই ঈদ উদযাপন করছে।’

সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারের ব্যাপারে হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোমালিয়ার জলদস্যু কতৃক হাইজ্যাক হওয়া জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আছে। খুব সহসা আপনারা সুখবর শুনতে পাবেন। আমি শুধু এটুকুই বলি, নাবিকরা খুব সহসাই মুক্তি লাভ করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা জাহাজটাও মুক্ত করে নিয়ে আসতে পারব। গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এরমধ্যেই সাধিত হয়েছে।’

এর পূর্বে ‘চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা সব সময় বলেন এবং আমরাও বলি, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আজকে ঈদ উৎসবকে উপলক্ষ করে ‘চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব’-এর আয়োজন করেছেন। এ উৎসবে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই সামিল হয়েছে। অর্থাৎ, ধর্ম যার যার উৎসব যে সবার সেটি আসলে বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে এ উৎসবের মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যখন প্রবারণা পূর্ণিমার সময় ফানুস উড়ানো হয়, তখন সব সম্প্রদায়ের মানুষ এ উৎসবে সামিল হয়, ছোটবেলা থেকে আমি নিজেও ফানুস উড়ানো উৎসবে সামিল হতাম। একইভাবে যখন দূর্গাপুজা উৎসব হয়, তখনো সব সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে সামিল হয়। অর্থাৎ, আমরা এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই মিলেমিশে একাকার।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্ত স্রোতের বিনিময়ে আমাদের এ দেশ রচিত হয়েছে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রচনা করার জন্য। তাই, আজকে যারা এ উৎসবের আয়োজন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের ইতিহাস তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা প্রথম জনসভা করে জনসমক্ষে ঘোষণা করেছেন এ লালদীঘির ময়দানে। এর পূর্বে, ছয় দফা ঘোষণা করেছিল, কিন্তু জনসভা করেছিল ছয় দফার ওপরে এ লালদীঘির ময়দানে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রাম থেকে প্রথম বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পাঠ করেছিলেন এমএ হান্নান। মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ অনেককে সঙ্গে নিয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামকে কয়েক দিন স্বাধীন রেখেছিলেন। ১৮৫৭ সালে সুবেদার রজব আলী চট্টগ্রামের প্যারেড গ্রাউন্ডে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ দেশে কোন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির স্থান হবে না। কেউ সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে, সব সময় করেছি, ভবিষ্যতেও করব। এ দেশে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই।’

এ সময় ‘চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব’ আয়োজক কমিটির সভাপতি জহরলাল হাজারী ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ, কাউন্সিলর রুমকি সেন গুপ্তা, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আজিম রনি উপস্থিত ছিলেন।