রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪

শিরোনাম

‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’ দারুন রোমান্টিক জনপ্রিয় সিনেমা

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১, ২০২২

প্রিন্ট করুন

নুরুন্নবী নুর: ১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, মিতালী ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিবেশনায়, এসএম প্রোডকসন্সের নিবেদন, প্রেমেন্দ্র মিত্রের রচনা-চিত্রনাট্য ও গানে, সুকুমার দাশগুপ্তের প্রযোজনা ও পরিচালনায় ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’ ভারতীয় বাংলা সিনেমাটি দেখলাম। উত্তম-সাবিত্রী অভিনীত ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’ দারুন রোমান্টিক জনপ্রিয় সিনেমা। উত্তম বরাবরই ভাল অভিনয় করেন। মহানায়কের সাথে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ও নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে অভিনয় করে গেছেন। তাছাড়া ছবি বিশ্বাস-পাহাড়ী সান্যাল একই সিনেমায় থাকলে তো কথায় নেই! একে অপরের বন্ধু চরিত্রে তাদের সম্পর্কের ক্যামিস্ট্রিটা বেশ জমে উঠেছে! তাদের অভিনয় দক্ষতা এত বাস্তবিক, তা ভাষায় প্রকাশযোগ্য না। তরুণ কুমারও কম কিসে, কিংবদন্তিদের ভীড়ে তিনিও অসাধারণ অভিনয় করেছেন।

অন্যান্য ভূমিকায় পদ্মা দেবী, বাণী গাঙ্গুলী, কৃষ্ণা ঘোষসহ জহর রায়, শান্তি ভট্টাচার্য্য, ধীরাজ দাস, বীরেন চ্যাটার্জ্জি, জয়নারায়ণ মুখোপাধ্যায়, বেচু সিংহ, সমর চ্যাটার্জ্জি, খগেন পাঠক, সুবোল দত্ত, সুধীর বোস, অরুণ রুদ্র ও বীরেন, সবাই অভিনয়ে নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’ সিনেমায় সম্পাদনায় তরুণ দত্ত, শিল্প নির্দেশনায় প্রীতিময় সেন, সুর সৃষ্টিতে ছিলেন নচিকেতা ঘোষ ও কণ্ঠ সঙ্গীতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও নির্ম্মলা মিশ্র।

হাত বাড়ালেই বন্ধু থেকে শিক্ষণীয় বিষয়- আমাদের বাস্তব জীবনটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে কিছু বিষয় মাথায় রেখে চলতে হয়। সে ক্ষেত্রে, সবার উপরে হল- ব্যক্তি টু ব্যক্তির সম্পর্কটা অধিক জোরালো করা! বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মানুষে-মানুষে মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক তৈরি করে। চলার পথে যে যত বেশি বন্ধু তৈরি করবে, তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সে তত বেশি এগিয়ে থাকবে! মুখের উপর আমরা রাগ করি, অভিমান কি, কিন্তু তার আড়ালে আমাদের মনের মধ্যে ভালবাসা কাজ করে। আমি মনে করি, মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা মানে সৃষ্টিকর্তার কাছে ইবাদত করার শামিল।

লেখক: তরুণ শিল্প সমালোচক ও সংস্কৃতি কর্মী