মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪

শিরোনাম

হালুয়া-রুটির ভাগ লালায়িত বিএনপির নেতাদের আর ক্ষমতার বাইরে থাকা সহ্য হচ্ছে না

শুক্রবার, জুন ৭, ২০২৪

প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রাম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগ-বাঁটোয়ারার জন্য লালায়িত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ যারা বিএনপি দল গঠন করেছিলেন, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী দুই বছর ও একাধারে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের চার মেয়াদসহ ২২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা তাদের পক্ষে এখন আর সহ্য হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে দেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন অগ্রগতিও তারা সহ্য করতে পারছে না। সেই কারণে তারা এখন বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

শনিবার (৭জুন) দুপুরে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের (টিআইসি) মিলনায়তনে বাঙালির মুক্তি সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস স্মরণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সভায় হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সংসদে সাত লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট ঘোষণা হয়েছে। গেল ১৫ বছরে বাজেটের অংক সাড়ে ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

যুক্তি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কোন একটা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার বৃদ্ধি পাওয়া মানে সেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাল চলছে। দেশের বাজেটের আকার যখন বৃদ্ধি পায়, তখন বুঝতে হবে দেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। বিএনপি-জামাত বাজেট ঘোষণার আগেই বিবৃতি রেডি করে রাখে। গেল ১৫ বছরের তাদের বিবৃতি-বক্তব্য যদি দেখেন, হুবহু মিল খুঁজে পাবেন।’

বাজেটের সমালোচকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাজেট জনগণের কল্যাণে যদি না এসে থাকে, তাহলে গেল ১৫ বছরে দরিদ্রতা ৪০ শতাংশ থেকে নেমে ১৮ দশমিক সাত শতাংশে নেমে এল কিভাবে? আর অতিদরিদ্রতা ২২ শতাংশ থেকে পাঁচ দশমিক সাত শতাংশে কিভাবে নেমে এসেছে? এটি সম্ভবপর হয়েছে বাজেট বাস্তবায়নের কারণেই। বিএনপি-জামায়াত ও কিছু বুদ্ধিজীবিরা আসলে চোখ থাকতেও অন্ধ, কান থাকতেও বধির। ওদের চোখ ও কান যেন স্রষ্টা ঠিক করে দেন, সেই প্রার্থনা করি।’

দেশে বুদ্ধিজীবী কয়েক প্রকার উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটা হচ্ছে সত্যিকারের বিশেষজ্ঞ, আরেকটা হচ্ছে বিশেষ কারণে অজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, আরেকটা হচ্ছে সব বিষয়ে বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ। কিছু বিশেষজ্ঞ নামধারীরা ও বিএনপি-জামাত প্রতি বারের মত এবারো বলতে শুরু করেছে, এ বাজেট জনগণের কোন কল্যাণে আসবে না।’

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ছয় দফা প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পূর্ব বাংলার মানুষের মাঝে স্বাধীনতার পক্ষে মনন তৈরি করার জন্যই বঙ্গবন্ধু ছয় দফা ঘোষণা করেছিলেন। ছয় দফার পক্ষে মানুষ ব্যাপক সাড়া দেন। বঙ্গবন্ধু ছয় দফা নিয়ে সারা দেশ ঘুরে বেড়ান, যেখানেই বক্তব্য দেন সেখান থেকে গ্রেফতার করা হত। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন।’

তিনি বলেন, ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর ছয় দফার ওপর ভিত্তি করেই দেশে সাধারণ নির্বাচন হয়। জনগণ ছয় দফার পক্ষেই ভোট দেয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বিলিতে মেজরিটি পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। এরপর ক্ষমতা হস্তান্তরে যখন বাহানা করা হচ্ছিল, তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ছয় দফা যখন ঘোষণা করেছিলাম, তখন এটি আওয়ামী লীগ কিংবা শেখ মুজিবের দফা ছিল, নির্বাচনের পর এটি জনগণের দফায় পরিণত হয়েছে। জণগণই ছয় দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি ছয় দফার বাইরে কোন আপোস করতে পারব না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যদি আপোস করতেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নয়, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি স্বাধীনতার লক্ষ্যে এগিয়ে যান ও বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।’

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সব সংকট-ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় আজকে আওয়ামী লীগ পরপর চার বার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিরোধী শক্তি শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের সব স্তরের নেতা-কর্মীদের চোখ কান সব সময় খাঁড়া রাখতে হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিন, সহ-সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু।