বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও থেকেও

বুধবার, নভেম্বর ৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বুড়িরবাঁধ থেকে হিমালয় পর্বতমালার অংশ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। শীতের সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া। ভারতের সিকিম ও নেপালের সীমান্তঞ্চলে অবস্থিত এ পর্বতের চূড়া অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন-চার মাস পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা যায়।

জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বুড়িরবাঁধ এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার ছবি প্রথম ক্যামেরাবন্দি করেন ফটোগ্রাফার রেজাউল হাফিজ রাহী। এর আগে শুধু পঞ্চগড় থেকে বিশেষ একটা সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যেত।

বুড়িরবাঁধ এলাকার আকবর হোসেন ও শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগের বছরও এ বুড়িরবাঁধ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় দেখছি। এবার গত কিছু দিন থেকে দেখা যাচ্ছে। তবে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে দশটা পর্যন্ত বেশ ভাল দেখা যায়। তারপর আস্তে-আস্তে ঝাপসা হতে থাকে। তবে শেষ বিকালে সূর্যকিরণ ফের যখন তির্যক হয়ে পড়ে, বরফের পাহাড়ে তখন অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

বুড়িরবাঁধ এলাকার আরমান আলী বলেন, ‘আমি অপেক্ষায় থাকি প্রতি বছর এ পাহাড়টা দেখার জন্য। পঞ্চগড়ে না গিয়েও আমাদের ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যায়। গত বছর শীত বেশি থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া ভালভাবে দেখা যায় নি। তবে এবার শীত কম থাকায় চূড়াটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।’

ফটোগ্রাফার রেজাউল হাফিজ রাহী বলেন, ‘২০১৩ সালে বুড়িরবাঁধ এলাকায় পাখির ছবি তুলতে গিয়ে প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘার সর্বোচ্চ চূড়ার ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করি। এরপর তা ফেসবুকে পোস্ট করি। এরপর থেকেই মানুষ জেনেছে শুধু পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে নয়, ঠাকুরগাঁও থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়া দেখা যায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ প্রতিনিয়ত আসে ঠাকুরগাঁও জেলায়।’

সাহিত্যিক ও নাট্যকার আজমত রানা ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার জানান, কয়েক দিন আগেই ঘুরে আসলাম ঠাকুরগাঁওয়ে শেষ সীমানায়। কারণ যত কাছে যেতে পারবেন, ততই স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে দেখতে পারবেন হিমালয় পর্বতমালার অংশ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরুপ নয়নাভিরাম দৃশ্য। সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এমন সুন্দর দৃশ্য আর দেখি নি কখনো। প্রতিদিন ভোরবেলায় হাজার-হাজার প্রকৃতি প্রেমিরা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসছেন। এখানে মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় ভোর ও গোধুলি বেলায় বলেও জানান তারা।’

ঠাকুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান জানান, শহরের গোবিন্দগরে অবস্থিত আমাদের অফিসের পঞ্চম তলা ভবন থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত সুন্দরভাবে দেখা যায়। সে জন্য ভবনের উপরে আলাদাভাবে ছাদ তৈরি করেছি শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য; যেন অফিসের স্টাফরা মনরোম পরিবেশে উপভোগ করতে পারেন। আর শীতের সকালে এ নয়নাভিরাম দৃশ্যই প্রায়ই পরিবার নিয়ে উপভোগ করি আমরা।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা ফের ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ে যোগ দেয়ার পর জেনেছি, এখান থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখা যায়, নিজেও সেই দৃশ্য উপভোগের চেষ্টা করছি। চমৎকার ও অপূর্ব সেই দৃশ্য। নিজের চোখকে বিশ্বাস করা যায় না এতটাই অপূর্ব।’

তবে এ যে এতদূর হতেও শীতকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত দেখা যায়, তার জন্য এখানে উচু স্থাপনা ও সেই স্থাপনার সাথে শিশুপার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও ক্যান্টিন গড়ে উঠতে পারে বলেও জানান তিনি।