বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

শিরোনাম

২০২৬ এ অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে চট্টগ্রাম বন্দর বে-টার্মিনালের

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) বে-টার্মিনাল নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ ও নকশাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৫ সালে। ২০২৬ সালে টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে। বে-টার্মিনাল প্রকল্পে একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণ করবে চবক। এ টার্মিনালে জেটি থাকবে ছয়টি। তবে বে-টার্মিনালে মোট ১৩টি জেটি থাকবে। এ টার্মিনালে মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটি সুবিধা থাকবে। প্রকল্পের পূর্ব দিকে রয়েছে পোর্ট অ্যাকসেস রোড ও রেলপথ।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরে বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নিয়োজিত কনসালটেন্ট মেসার্স কুনহুয়া দাই জেভির তৈরি করা মাস্টারপ্ল্যানের উপর স্টেক হোল্ডার, বন্দর ব্যবহারকারী ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে শহীদ মো. ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান এসব কথা বলেন।

চবকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বে-টার্মিনাল প্রকল্পে মাল্টিপারপাস টার্মিনালটি নির্মাণ করবে চবক। বাকি দুইটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হবে। এ প্রকল্পের জন্য গত বছরের অক্টোবর মাসে ৬৮ একর জমি চবককে বুঝিয়ে দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনকে ৪০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বে-টার্মিনাল প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও চট্টগ্রাম বন্দরের অধীনে মাল্টিপারপাস টার্মিনালের বিস্তারিত প্রকৌশল নকশা, ড্রইং ও প্রাক্কলনে পরামর্শক সেবার জন্য কুনহোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনসাল্টিং কোম্পনি লিমিটেড-ডি ওয়াই ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি যৌথভাবে কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের মহা পরিকল্পনা প্রণয়নের সাথে বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজের তদারকিও করবে।’

এম শাহজাহান বলেন, ‘বে-টার্মিনাল চ্যানেলে কোন বাক নেই ও যথোপযুক্ত নাব্যতা রয়েছে। তাই সেখানে ১০-১২ মিটার ড্রাফটের সর্বোচ্চ ছয় হাজার টিইইউজ বহনক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ বার্থিং করানো সম্ভব হবে।’

বে-টার্মিনালে একটি এক হাজার ২২৫ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার টার্মিনাল, একটি ৮৩০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার টার্মিনাল ও একটি দেড় হাজার মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মিত হবে। এ তিন টার্মিনালের মোট দৈর্ঘ্য তিন দশমিক ৫৫ কিলোমিটার।

চট্টগ্রাম বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে জোয়ারের সময় গড়ে চার ঘণ্টায় সর্বোচ্চ নয় দশমিক পাঁচ মিটার ড্রাফটের ও সর্বোচ্চ ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ বন্দরের জেটিগুলোতে ভিড়তে পারে। তবে বে-টার্মিনালে রাত-দিন ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও দশ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে।’

গত বছর দেশের প্রধান এ সমুদ্র্রবন্দর ৩০ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছিল। বে-টার্মিনালের সক্ষমতা হবে প্রায় ৫০ লাখ টিইইউএস। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা।

মত বিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিসি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শিপিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।