ঢাকা: রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াও শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচারী’ করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের বদিউল আলম মজুমদার।
শনিবার (১ মার্চ) ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মানববন্ধনে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা তো আর আকাশ থেকে পড়েননি। একটা পদ্ধতি, প্রক্রিয়া তাকে স্বৈরাচারী করে তুলেছে।’
‘এই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির পরিবর্তন দরকার; আবার যারা ক্ষমতায় যাবে, তারা যেন হাসিনার মত দানবে পরিণত না হয়।’
‘অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ দাবিতে’ এ মানববন্ধন আয়োজন করে সুজন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বদিউল আলম বলেন, ‘আন্দোলনটা ছিল একটা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা অবসান ঘটানোর জন্য, যা শেখ হাসিনাকে দানবে পরিণত করেছিল।’
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারে ১১টা কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান করা হয় সুজন সম্পাদককে। তিনি এরই মধ্যে তার সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে কমিটির উপলব্ধি হলো, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হয়, তাহলে নির্বাচন অঙ্গন পরিচ্ছন্ন করতে হবে।’
‘নির্বাচন অঙ্গনে যেসব অপরিচ্ছন্ন ব্যক্তি অতীতে নির্বাচিত হয়েছে, নির্বাচিত হয়ে পবিত্র অঙ্গন দখল করেছে, তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করতে হবে।’
বডিউল আলম আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক অন্যায় হয় আঁতাতের ভিত্তিতে; অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। এ জন্য রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলে পরিবর্তন আনতে হবে; টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে।’
‘নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে, নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। এগুলো যদি তৈরি করতে না পারি, তাহলে এই ব্যবস্থা আবার স্বৈরাচার তৈরি করবে।’
মানববন্ধনে সুজনের নির্বাহী সদস্য মুসবাহ আলীম, জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন, ঢাকা জেলার সহসভাপতি রাশিদা আক্তার শেলী, সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক, ঢাকা মহানগরের সহসভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়েরুল হক নাহিদ বক্তব্য দেন।